দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৎপরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে সামুদ্রিক টহল ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়িয়েছে তাইওয়ান। এর অংশ হিসেবে সেখানে নিয়মিতভাবে বড় আকারের টহলজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড।
বুধবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, প্রাতাসের জলসীমায় তাদের সামগ্রিক টহল ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা ‘ব্যাপকভাবে উন্নত’ করা হয়েছে।
জুলাইয়ে একটি নতুন জেটি নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর ১০০ টন শ্রেণির একটি নতুন টহল নৌযান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাতাসে মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় টহল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর পাশাপাশি প্রাতাসের আশপাশের জলসীমায় বড় টহলজাহাজও নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড বলছে, এর মাধ্যমে একাধিক স্তরে প্রতিরোধ ও দ্রুত আইন প্রয়োগের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ান নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জ তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। ফলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এলাকাটিকে চীনের সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, যদিও তাইওয়ান এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। গত কয়েক বছরে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রাতাসের কাছাকাছি চীনা কোস্ট গার্ডের টহলও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেও সেখানে চীনা কোস্ট গার্ডের টহলের ঘটনা ঘটে।
প্রাতাস দ্বীপের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের হাতে। সেখানে একটি বিমানপথ রয়েছে, তবে কোনো স্থায়ী বেসামরিক জনবসতি নেই। চীন প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের দাবি স্বীকার করে না।
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে প্রাতাসের আশপাশে নয়টি চীনা মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এসব নৌযানকে এখন প্রবালপ্রাচীরের টহল ও সামুদ্রিক সংরক্ষণকাজে ব্যবহারের জন্য পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জ একটি জাতীয় উদ্যান। পর্যটন কার্যক্রম প্রায় না থাকায় এখানকার প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক পরিবেশ অনেকটাই অক্ষত রয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হলো বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ইতু আবা। এর পাশাপাশি কাছের জনবসতিহীন ঝংঝৌ রিফের ওপরও নিয়ন্ত্রণের দাবি করে তাইওয়ান।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/